মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক নতুন ও বিধ্বংসী মোড় নিয়েছে। পারস্য উপসাগরের তলদেশে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পারসের একটি প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের অর্ধেক জোগান দেওয়া এই বৃহত্তম স্থাপনাটিতে অত্যন্ত শক্তিশালী আঘাত হানা হয়েছে। এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির যে ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
হামলার ভয়াবহতা কেবল অবকাঠামো ধ্বংসেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তেহরানে চালানো পৃথক হামলায় বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। এছাড়া কুদস ফোর্সের আন্ডারকভার ইউনিটের প্রধান আসগর বাকেরিকেও হত্যার দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
রাজধানী তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সংলগ্ন এলাকায় বিমান হামলার পর আজাদি স্কয়ারের ওপর দিয়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে যুদ্ধবিমানের গর্জন শোনা গেছে।
ইসরাইলের এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও পাল্টা আঘাত হেনেছে। উত্তর ইসরাইলের হাইফা শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি দেখে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং ইরানের ছোড়া বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক জ্বালানি স্থাপনায় নিয়মিত হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।
এদিকে, হোয়াইট হাউস এই হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যস্থতাকারীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানকে দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে ইরান যদি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র পুরো গ্যাসক্ষেত্রটি ‘বিস্ফোরিত করে উড়িয়ে দেবে’। সব মিলিয়ে এই পাল্টাপাল্টি হামলা কেবল ইরান বা ইসরায়েল নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে।


